প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক >

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এগিয়ে লুলা

article-img

বাংলাদেশের মতো ব্রাজিলেও আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। সর্বশেষ এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা অল্প ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোর সঙ্গে তার ব্যবধান ক্রমেই কমে আসছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির। 

ব্রাজিলের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান গ্লোবোর কমিশনে পরিচালিত কোয়েস্ট জরিপ অনুযায়ী, আগামী অক্টোবরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার ভোটে লুলা ৪৩ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। অন্যদিকে, সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ও সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর পক্ষে মত দিয়েছেন ৪০ শতাংশ ভোটার।

১০ থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত ২ হাজার ৪ জন ভোটারের মধ্যে পরিচালিত এই জরিপে ত্রুটির সীমা ধরা হয়েছে ২ শতাংশ। ফলে দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান কার্যত পরিসংখ্যানগতভাবে সমানে সমান বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে ৫ আগস্ট প্রকাশিত একই জরিপে লুলা ৪৪ শতাংশ এবং ফ্লাভিও বলসোনারো ৩৯ শতাংশ সমর্থন পেয়েছিলেন।

প্রথম দফার সম্ভাব্য ভোটের হিসাবেও লুলা এগিয়ে রয়েছেন। জরিপে তিনি ৩৮ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন, যেখানে ফ্লাভিও বলসোনারোর পক্ষে রয়েছে ৩১ শতাংশ ভোট। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রেনান সান্তোস ও রোনালদো কাইয়াদো পেয়েছেন ৪ শতাংশ করে এবং রোমেউ জেমা পেয়েছেন ২ শতাংশ সমর্থন।

ব্রাজিলের নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী প্রথম দফায় বৈধ ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি না পেলে শীর্ষ দুই প্রার্থীকে নিয়ে দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হয়।

সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পর দেশটির ডানপন্থী রাজনীতির প্রধান মুখ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন তার জ্যেষ্ঠ ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ নির্বাচন আদালত জাইর বলসোনারোকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করে। পরে ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজয়ের ফল উল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগেও তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।

এদিকে, ২ আগস্ট সাও পাওলোতে ওয়ার্কার্স পার্টির সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন লুলা। তিনি নির্বাচনি লড়াইকে জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেন এবং ব্রাজিলের বিরল খনিজসম্পদ ও কৌশলগত সম্পদের ওপর বিদেশি প্রভাব প্রতিহত করার অঙ্গীকার করেন।  

লুলা বলেন, আমি প্রস্তুত থাকতে চাই, যাতে কেউ এই দেশে হস্তক্ষেপ করতে না পারে। তিনি আরও বলেন, চীন, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ফ্রান্স—কোনো দেশই ব্রাজিলের সার্বভৌমত্বকে সম্মান না করে দেশটির খনিজসম্পদে প্রবেশাধিকার পাবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বলসোনারো পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এ প্রসঙ্গে জুন মাসে লুলা ট্রাম্পকে ব্রাজিলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ব্রাজিলের নির্বাচন ব্রাজিলের নিজস্ব বিষয়, যেমন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন তাদের নিজস্ব বিষয়।

নির্বাচনের আর প্রায় দুই মাস বাকি থাকলেও সর্বশেষ জরিপ ইঙ্গিত দিচ্ছে, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ক্রমেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে এখনো সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা।


আরো খবর